
কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তের নাফ নদীতে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে এক চাকমা দিনমজুর নিখোঁজ হয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তির নাম সা মুং চিং চাকমা (উগবার ছেলে)। বুধবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গেলে তিনি নিখোঁজ হন বলে জানান তার স্ত্রী ছাম্মিয়াউ তঞ্চঙ্গ্যা। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের অভিযোগ, এটি অপহরণের ঘটনা হতে পারে। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এসআই আব্দুল আজাদ জানান, এখনো কোনো ক্লু না পাওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি সীমিত, তবে পুলিশ কাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নাফ নদী এলাকায় এটি নতুন ঘটনা নয়। প্রায় দুই বছর আগে একইভাবে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ছৈলা মং চাকমা ও ক্যমংখোএ তঞ্চঙ্গ্যা নামে দুই যুবক নিখোঁজ হন। তাদের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ ছৈলা মং চাকমার ভাই পিরামং চাকমা জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে তারা নদীতে গেলে আর ফিরে আসেননি। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে তখন জানা গিয়েছিল, তাদের আটক করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিজিবির দাবি, নাফ নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই অবৈধভাবে প্রবেশ করেন, ফলে নিখোঁজ বা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।
বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় আদিবাসী নেতারা বলছেন, জীবিকার তাগিদে নদীতে যাওয়া মানুষদের নিখোঁজের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।