
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমসের এক ঝটিকা অভিযানে ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন অবৈধ সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এই বিশাল চালানের বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যৌথ বাহিনীর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক আগমন হলে এনএসআই এবং ডিজিএফআই-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিমানবন্দর কাস্টমস শাখা ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
যেভাবে উদ্ধার হলো বিশাল চালান
অভিযান চলাকালে বিমানবন্দরের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে কোনো দাবিদার ছাড়াই পড়ে থাকা ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
এর পাশাপাশি, মাস্কাট থেকে আসা ‘সালাম এয়ার’-এর ওভি-৪৯৩ ফ্লাইটের এক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশি করা হয়। মো. শামসুদ্দিন নামে ওই যাত্রীর ব্যাগ থেকে আরও ২৮০ কার্টন সিগারেট জব্দ করে যৌথ বাহিনী। শামসুদ্দিন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
জব্দকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যাত্রী মো. শামসুদ্দিনকে নিয়ে কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখা কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। তাকে শুধুমাত্র মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান বন্ধে এনএসআই, ডিজিএফআই ও কাস্টমসের নজরদারি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এই ধরনের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।