
রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা-নন্দাখালী সংযোগ সড়ক ঠিক করতে এসে উল্টো ইট তুলে নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। কাজ শুরু করার এক মাসের মধ্যে এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।
২০২৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ঠিকাদার মোস্তফা কামালের এস.আর কর্পোরেশন জেভি নামক প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৪ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে জোয়ারিয়ানালা ফারিখাল খালের উপর ১৮৪ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ ও ৪৪০০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রকল্পের কাজ পায়। কিন্তু প্রকল্পে প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ না করেই পালিয়ে যায় ঠিকাদার ও তার লোকজন। ফলে গত সাড়ে ৬ মাস ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বহুল প্রত্যাশিত ফারিখাল খালের উপর ১৮৪ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের অগ্রগতি নেই। অর্ধেক কাজ করে ব্রিজ নির্মাণের কাজও বন্ধ করে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ফারিখাল খালের উপর ব্রিজটি নির্মাণ হলে পিএমখালী ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ উপকৃত হবে।
নন্দাখালী গ্রামের বাসিন্দা আতা উল্লাহ জানান, সবার যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র পথ। রাস্তাটিতে ইট বিছানো ছিল। ঠিকাদার রাস্তাটি পাকা করতে এসে সবার আগে ইট সরিয়ে নিয়েছেন। তখন থেকেই রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে হাঁটুপানি জমে। এতে বয়স্ক ও ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইএলপি-এর আওতাধীন হেল্প প্রকল্পের অধীনে সংযোগ সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রায় দেড় বছরের সময়সীমা হাতে থাকলেও ঠিকাদার সড়কের মাত্র ৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন ধরে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে দিয়েছে। এ ব্যাপারে রামু উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ১১ মার্চ একটি চিঠি ইস্যু করে নির্বাহী প্রকৌশলী, কক্সবাজার বরাবর।
এদিকে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, ‘ঠিকাদার কাজ শেষ না করে চলে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়েছি এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা দেখা করবে বলে এখনো দেখা করেনি। বর্ষার আগে কাজ শেষ না করলে এলাকার মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে।’
কক্সবাজার জেলার এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী ট্রেনিংয়ে বিদেশ সফরে আছেন। এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না।’
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়ক ও সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে জনগণের ভোগান্তি দূর করতে হবে। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই সড়ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে