
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার এক আসামিকে ফেনীতে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করাকে কেন্দ্র করে দলীয় অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন কমিটি ঘোষণার দুই দিনের মাথায় একযোগে পদত্যাগ করেছেন কমিটির ছয় নেতা।
শনিবার (৩ মে) ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদ্য ঘোষিত আংশিক কমিটি থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি সদস্যরা পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাদের অভিযোগ, নেত্রীর গাড়িবহরে হামলার মামলার একজন আসামির সঙ্গে একই কমিটিতে কাজ করা সম্ভব নয়।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে আট সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কমিটির ছয় সদস্য দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এনামুল হক সুজনের নাম রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে হওয়া ওই মামলায় তাকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুজন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, সুজন দীর্ঘদিনের কর্মী এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী জানান, কমিটি ঘোষণার সময় তারা মামলার বিষয়টি জানতেন না। পদত্যাগের ঘটনায় এখন সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে তদন্তাধীন একটি মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।