চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দোষারোপ নয়, বরং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হচ্ছে বন্যাকবলিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং দ্রুত তাদের কাছে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।
সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সংগ্রহ করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। যেসব পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো মেরামতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে, মাছের ঘের ভেসে গেছে অথবা গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।’
তিনি জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থিক দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে জুলাই মাসের ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে এনজিওগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে দুর্গত পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।