
চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থার কারণে একটি বোর্ডের পরিস্থিতির জন্য দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলেও জানিয়েছে তারা।
সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। সব পরীক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় শুধু ওই বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়, সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কয়েকটি কেন্দ্রে, বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ভাষ্য, ১২ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বারবার পরীক্ষা স্থগিত করা হলে শিক্ষাজীবন, ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রমসহ সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের পরিস্থিতির জন্য সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয়।
তবে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।