
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে তার নিজ দেশ সুইজারল্যান্ডে বিক্ষোভ করেছেন ফুটবল সমর্থকেরা। ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং বিতর্ক, ভিএআর সিদ্ধান্ত, খেলার বাণিজ্যিকীকরণ এবং ফিফার নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেন।
বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসে সুইজারল্যান্ডে এ বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ব্যানার হাতে মিছিল করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। তারা ‘ফিফার দুর্নীতি বন্ধ করো’, ‘ইনফ্যান্তিনোকে হটাও’ এবং ‘আধুনিক ফিফার বিরুদ্ধে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বারাস দেল মুন্দো জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই চলা এ বিক্ষোভ ধীরে ধীরে তীব্র হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খেলাধুলার অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, বিতর্কিত রেফারিং, ম্যাচসূচি নির্ধারণ এবং ফিফার ব্যবসায়িক নীতির বিরুদ্ধে তাদের এ আন্দোলন।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কে রয়েছে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার পদত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব নেন জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। তবে তার আমলেও বিতর্ক থামেনি।
চলতি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ তুলে দেওয়ার পর নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর টুর্নামেন্টজুড়ে একের পর এক রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।
বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো ঘিরে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের পর আলজেরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়ে দাবি করে, লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলের ঘটনায় লাল কার্ড না দেখানো হলেও একই ধরনের ঘটনায় অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচে এজরি কোনসার ট্যাকলের পরও পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের ঘটনা। ইনফ্যান্তিনো স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার পর ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে খেলার অনুমতি পাওয়ার এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগকে আরও জোরালো করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নকআউট পর্বের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রেফারিং নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকা ক্ষোভ এবার ইনফ্যান্তিনোর নিজ দেশ সুইজারল্যান্ডের রাজপথে বিক্ষোভে রূপ নেওয়ায় বিষয়টি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তথ্যসূত্র: বারাস দেল মুন্দো।