
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মাসুদ মিয়া(৩০)নামে একজন নিহত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত মাসুদ মিয়া মিরারচর এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় হিরন মিয়া নামে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এই বিরোধ প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো।
সম্প্রতি বাজারটির নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের পর আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মাঝেমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলেও সোমবার সকালে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
বাজারের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং সংঘর্ষের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।