
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এবার প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের রোলভর্তি একটি কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ৪০ ফুটের এফসিএল কনটেইনারটি গত ৩০ আগস্ট থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কনটেইনারটির কোনো সন্ধান দিতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। কনটেইনারটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কনটেইনারটি খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আগস্টে ঘটনা, ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি আগস্ট মাসে ঘটলেও শুরুতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ঘটনাটি আর গোপন থাকেনি।
জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ নামের একটি জাহাজ কনটেইনারটি খালাস করে।
ওই জাহাজে করে সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স আসে। পণ্যগুলো ছিল ৪০ ফুটের একটি এফসিএল কনটেইনারে। কনটেইনারটির নম্বর এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭।
রাজস্ব পরিশোধের পরও মিলল না কনটেইনার
আমদানিকারকের পক্ষে পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।
এরপর কাস্টমস ও বন্দরের নির্ধারিত সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করা হয়। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি ডেলিভারি নেওয়ার জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি সরবরাহ করতে পারেনি।
সেদিন থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও কনটেইনারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সিঅ্যান্ডএফ কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারটি পাওয়া যাচ্ছে না—এ বিষয়টি প্রতিদিন টার্মিনাল ম্যানেজারকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও এখন পর্যন্ত কনটেইনারটির কোনো হদিস মেলেনি।
এসআরএস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কনটেইনারে থাকা কাপড়ের রোলগুলো সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী পণ্য। এর ভেতরে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড় ছিল।
নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো হাতে না পাওয়ায় তাঁদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডও সমস্যার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তিনি।
কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
তিনি জানান, কনটেইনার মিসিংয়ের বিষয়টি তদন্ত করতে একটি কমিটি করা হয়েছে। বর্তমানে সেই তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।