
পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খুচরা বাজারে সার বিক্রির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবিতে রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বানেশ্বর বাজার এলাকায় শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ চলে প্রায় ৪০ মিনিট। পরে কৃষকেরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পরে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের দাবিগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।
মহাসড়ক অবরোধের আগে সারের দাবিতে বানেশ্বর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কৃষকেরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় চলছে। কিন্তু স্থানীয় সার ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার মিলছে না।
তাঁদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলাবাজারে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবেই সার নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
কৃষকেরা জানান, সোমবার সকালে বানেশ্বর বাজারের বিসিআইসি সার ডিলারের দোকানে সার বিক্রি শুরু হয়। সার নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেক কৃষক তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাননি।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকেরা প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর ৬টা থেকেই তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে ডিলার ওছমান আলী তাঁদের জানান, সার শেষ হয়ে গেছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সার না পেলে জমি রক্ষা করব কীভাবে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।’
কৃষকদের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছে ডিলার
তবে কৃষকদের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সার ডিলার ওছমান আলী।
তিনি বলেন, কৃষকেরা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
ওছমান আলীর দাবি, তাঁদের কাছে এখন পর্যন্ত ইউরিয়ার কোনো সংকট তৈরি হয়নি। সবাইকে সার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান, কৃষকদের মূল দাবি হচ্ছে বর্তমানে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে আরও বেশি সার বরাদ্দ করা।
এর পাশাপাশি ডিলারদের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগও কৃষকেরা করেছেন বলে জানান তিনি।
ইউএনও বলেন, কৃষকেরা তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে থাকা কীটনাশকের ডিলারদের দোকানেও সার বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। কৃষকদের এসব দাবি ও অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এনআইডি দেখে সার বিক্রির সিদ্ধান্ত
লিয়াকত সালমান বলেন, বানেশ্বরের পাশেই চারঘাট উপজেলা। চারঘাটের অনেক কৃষকও বানেশ্বর এলাকার ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করেন।
কিন্তু বানেশ্বরের ডিলারদের জন্য যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা শুধু বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।
এ কারণে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে সার বিক্রির নিয়ম করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বানেশ্বর ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সারে যাতে অন্য এলাকার কৃষকেরা ভাগ বসাতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
ডিলারের দোকানে থাকবেন কৃষি কর্মকর্তা
ইউএনও আরও জানান, প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য চাহিদার ভিত্তিতেই সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাই স্থানীয় কৃষকেরা যেন তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার পান, তা নিশ্চিত করতে ডিলারের দোকানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতি থাকবে।
পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার বিক্রির বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।
লিয়াকত সালমান জানান, প্রায় ১৫০ জন কৃষক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অবরোধ চলার পর তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
সেখানে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। এরপর কৃষকেরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।