
গাজীপুরের শ্রীপুরে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ককটেলসদৃশ একটি বস্তু বিস্ফোরিত হয়ে নূর মোহাম্মদ নামে এক কাঠমিস্ত্রি গুরুতর আহত হয়েছেন। এতে তাঁর বাঁ হাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বস্তুটি পরিত্যক্ত সাউন্ড গ্রেনেড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর-কাপাসিয়া সড়কের পাশে সাটিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত নূর মোহাম্মদ ওই এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদ তাঁর দোকানের পাশের একটি বালুর স্তূপে পরিত্যক্ত ককটেলসদৃশ বস্তুটি দেখতে পান। পরে সেটি হাতে নিয়ে রাস্তার পাশে আসেন। উপস্থিত লোকজন বস্তুটি কী, তা জানতে চাইলে তিনি এর গায়ে থাকা পিন খুলে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম জানান, বস্তুটি কুড়িয়ে পাওয়ার পর নূর মোহাম্মদ সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। তিনি সেটি খুলতে গেলে শফিকুল তাঁকে বাধা দেন। কিন্তু নূর মোহাম্মদ বাধা না মেনে বস্তুটি খোলার চেষ্টা করেন। এ সময় শফিকুল সেখান থেকে সরে যেতে থাকেন। এর মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসআরবি-১-এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার দেবজীত পাল বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বিস্ফোরিত বস্তুটি পরিত্যক্ত সাউন্ড গ্রেনেড। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. মনিরা পারভীন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দোকানের সামনে রক্ত পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বস্তুটি কীভাবে সেখানে এল, সে বিষয়ে এলাকার কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।