
লিঙ্গপরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, বরং সবার অধিকার, সক্ষমতা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে ভোলার লালমোহনে অনুষ্ঠিত এক অ্যাডভোকেসি সভায়। সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ ও কুসংস্কার দূর করে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) লালমোহন উপজেলা হলরুমে বাংলাদেশ স্বপ্ন ছোঁয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী ও তরুণদের জীবনে জেন্ডার স্টেরিওটাইপের প্রভাব, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং সমতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নারী ও তরুণদের জীবনকে প্রভাবিত করা নেতিবাচক সামাজিক ধারণা ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা মোকাবিলায় ‘সমতায় তারুণ্য: Youth for Equality’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত বিন সাদেক, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাসুদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কানিজ মারজিয়া এবং সাংবাদিক ইউসুফ আহমেদ। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন।
আলোচনায় সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং সমতা প্রতিষ্ঠার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়। দলগত কাজ, মতবিনিময় ও পোস্টার উপস্থাপনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন এবং তা মোকাবিলায় সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, সমাজ থেকে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য ও নেতিবাচক ধারণা দূর করতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, যুব সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের সব স্তরে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সচেতনতা, নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকেরা জানান, তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সম্ভব। লিঙ্গপরিচয় নয়, বরং প্রত্যেকের অধিকার, সক্ষমতা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রত্যাশা।