
পৌরসভা আছে, নাগরিকত্ব আছে, ভোটের অধিকারও আছে ,নেই শুধু উন্নয়ন। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চকপাড়া গ্রামের গল্পটা এমনই। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত গ শ্রেণীর মাটিরা পৌরসভা ২০১১সালে খ শ্রেণীতে উন্নতি করা হয়। কিন্তু দুই যুগের বেশি সসয় পরও যেখানে আলো পৌঁছায়নি, পৌঁছায়নি বিশুদ্ধ এক ফোঁটা পানি। ১টি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক মানুষের বসবাস যেন উন্নয়নের বিজ্ঞাপনের আড়ালে ঢাকা পড়া এক জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। পুরুষের কাঁধে কোদাল, নারীর মাথায় পানির কলস। দূরের ঝিরি থেকে মাথায় করে বয়ে আনা পানিই তাদের তৃষ্ণা মেটায়। আধুনিকতার এই সময়ে এসেও তারা পান করেন মাটির কুয়ার ঘোলা জল। পৌরসভায় থেকেও তাদের জীবন যেন মধ্যযুগের।
এখানে সন্ধ্যা নামে তাড়াতাড়ি। কারণ এ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। নেই ইট বাঁধানো পথ। বর্ষায় হাঁটু কাদা, শীতে ধুলো এই তাদের চলাচলের রাস্তা।
সবচেয়ে বড় হাহাকার শিক্ষায়। গ্রামে কোনো পাঠশালা নেই ।কোমলমতি শিশুরা প্রতিদিন প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। কিশোর-কিশোরীা প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে মাধ্যমিকে যায়। তারপর আর পথ নেই। দারিদ্র্যের কষাঘাতে পৃষ্ট হয়ে হেরে যায় বিলিন হয় তাদের স্বপ্ন। কলেজের বারান্দা তাদের কাছে অচেনা গ্রহের মতো। বই-খাতা ছেড়ে হাতে তুলে নিতে হয় সংসারের হাল।
স্থানীয় কার্বারি (গ্রাম প্রধান) বিজয় মোহন ত্রিপুরা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, "আমরা পৌরসভায় থাকি শুধু কাগজে-কলমে। ভোটের সময় সবাই আসে, ভোট শেষ হলে কেউ খবর রাখে না। পৌর নাগরিক হয়েও আমাদের জীবন দুর্বিসহ।"
তিনি জানান, কিছুদিন আগে গ্রামের জরাজীর্ণ মন্দিরটি ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কার করে দিয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল। তিনি চকপাড়াবাসীর জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয় পৌরসভা। কিন্তু চকপাড়ার ক্ষেত্রে এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল বলেন, "বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে অবগত করা হয়েছে। তার নির্দেশনা মোতাবেক সুপেয় পানির সংকট নিরসনে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই সাবমারসিবল সোলার সিস্টেম নলকূপ স্থাপন করা হবে। একই সাথে এমপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে কাঁচা রাস্তা সংস্কার ও প্রশস্তকরণ এবং উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ১ কিলোমিটার রাস্তা এসবিবি (ইট সোলিং) করা হবে। বাকি সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।"
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, "পৌর ফান্ডে বর্তমানে বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ আসলে চাহিদা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
তবুও আশায় বুক বাঁধে চকপাড়া। তারা চায়, পৌর মানচিত্রের একটি বিন্দু হয়ে নয়, মানুষ হিসেবে বাঁচতে। তাদের দাবি একটাই,একটু আলো, একটু পানি, একটু পথ।