-6aee09a9e118b.webp)
বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী। অভিযোগে সোহেল নামে ওসির এক সহযোগীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকে ওসি ও তাঁর সহযোগীরা ভুক্তভোগী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তরুণী ও তাঁর স্বজনেরা। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা।
এদিকে অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হলেও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
লিখিত অভিযোগে ওই তরুণী উল্লেখ করেন, প্রায় দেড় বছর আগে ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় দায়িত্ব পালন করার সময় একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে তিনি সেখানে যান। ওই সময় তাঁর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন ওসি। পরে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক চলাকালে ইফতেখার নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওসি ইফতেখার তাঁকে নিজের বন্ধু সোহেলের বাসায় নিয়ে যেতেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সম্মতি ছাড়া জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এ কাজে সোহেলও সরাসরি সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল নিয়মিত তাঁকে ওসির সঙ্গে দেখা করানোর ব্যবস্থা করতেন। এমনকি নিজের বাসাকে ওসির জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবেও ব্যবহার করতে দিতেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে ইফতেখার তাঁকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওসি ইফতেখারের বাবা তাঁকে ফোন করেন। এ সময় পরিবারের চরম আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে কটূক্তি করার পাশাপাশি তাঁকে অপমান করা হয়। এর প্রতিবাদ জানালে ওসি ইফতেখার নিজেই তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি মানসিকভাবে নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তরুণীর দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি ইফতেখার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁর বন্ধু সোহেল এবং নিজের পরিচিত এক ব্যক্তিকে, যাঁকে ওসির কথিত আঙ্কেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী, তাঁর বাসায় পাঠান। সেখানে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সব কল রেকর্ড ও মুঠোফোনের বার্তা মুছে ফেলা হয়।
ওই তরুণী আরও অভিযোগ করেন, ইফতেখার ও তাঁর সহযোগী সোহেল নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে যেকোনো সময় তাঁর এবং পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এমনকি তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া ওসি তাঁর মা-বাবার কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এ জন্য কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বাড়ি থেকেও বের হতে পারছেন না। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনার বিচার দাবি করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে ওসি ইফতেখার হোসেন ও তাঁর সহযোগী সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওই তরুণী।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো সব কথা মিথ্যা।’
অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, তাঁরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।