
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন করে পতন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতেই তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানায়, কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে তেল বিক্রি শুরু করায় বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যায়।
আজকের লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ক্রুড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা এবং সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় দাম ওঠানামা করছে। সর্বশেষ ওই প্রণালি বন্ধের ঘোষণা বাজারে ঊর্ধ্বগতি তৈরি করলেও আজ তা আবার নিম্নমুখী হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের উত্থানে সিউলের কোস্পি ইনডেক্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। টোকিও ও তাইপেইয়ের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ ইনডেক্স ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫৯ হাজার ৫৯৬ দশমিক ১০ পয়েন্টে পৌঁছায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং ইনডেক্সও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পুরোপুরি না কমলেও কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি ফিরিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে।