.jpg)
খেলাপি ঋণ আদায় এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক। ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশে অবস্থানরত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদ শনাক্ত, আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা আটক এবং পরবর্তী সময়ে তা নিষ্পত্তির মাধ্যমে অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমে কাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন খেলাপি ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। আবার কোনো কোনো ঋণগ্রহীতা বিদেশে অবস্থান করছেন বা পলাতক রয়েছেন। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজ উদ্যোগে বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। বিদেশে সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হলে উদ্ধারকৃত অর্থের নির্দিষ্ট একটি অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে তারা। অর্থাৎ, সম্পদ উদ্ধার না হলে তাদের কোনো পারিশ্রমিক দিতে হবে না।
প্রথম পর্যায়ে সরকার গঠিত যৌথ তদন্ত দলের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের সিআইআইডি এবং আয়কর বিভাগের সিআইসি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিচ্ছে।
এ কার্যক্রমে Grant Thornton, RI Consortium, Baker McKenzie & PwC, DLA Piper & Kroll, EY & Dentons, Rahman Ravelli & Interpath, White & Case এবং Deloitte-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাগত প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) তথ্যের ভিত্তিতে ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে—এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে। এসব ঋণগ্রহীতার বিদেশে থাকা সম্পদ অনুসন্ধানে আটটি বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠান ও ফার্মকে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—Grant Thornton, RI Consortium, Baker McKenzie & PwC, DLA Piper & Kroll, EY & Dentons, Rahman Ravelli & Interpath, BCG & HHR এবং Animus Associates।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে পাচারকৃত অর্থ বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা বেশি, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণগ্রহীতা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্তের চেষ্টা করছে। সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো সম্পদ আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা আটক করা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে তা বিক্রি বা অন্য কোনো বৈধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে বিদেশি আইন, সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সম্পদের প্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার এবং খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে কার্যকর ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ের পথও সুগম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোও এ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে।