
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজানে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লেও এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৯ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুথি পরিচালিত আল মাসিরাহ টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার সকালে জিজানে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
এক বিবৃতিতে হুথিরা জানায়, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় জিজানের স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী জিজানে অবস্থিত সৌদি আরামকো শোধনাগারের একটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। ভোরে ওই স্থাপনায় আগুন লাগলেও দমকলকর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে শুক্রবারও সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছিল হুথিরা। ওই হামলার পর সৌদি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করে, গোষ্ঠীটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে ওই হামলায় সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণের অভিযোগ করেছেন আল-মালিকি। তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় জোট সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই বক্তব্যের বিষয়ে হুথি বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।