
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এক উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের আওতায় দেশের নির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩০০টি ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে।
১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক অনুদানে বাস্তবায়িত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মাঠপর্যায়ে এর কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
ক্লাসরুমে থাকবে এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তি
প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি স্কুলে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (IEP) দেওয়া হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ক্লাসের পাঠদান স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড করার ব্যবস্থা থাকবে এতে। ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের লেকচারগুলো ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে, যা ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীরা দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করেই ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়ার সংগ্রহ করতে পারবে।
মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বাসস’কে বলেন, ‘দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা অনুদানে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলের ক্লাসরুমে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা রয়েছে।’
স্থাপন হবে কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার
প্রকল্পটি শুধু ক্লাসরুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি তদারকি ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার জন্য মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা যাবে।
হুয়াওয়ের কারিগরি সহযোগিতা ও পাইলট প্রকল্প
এই মহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক (পাইলট) কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (পরিকল্পনা) তানজিনা শাহরীন বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে এই প্রকল্প মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, যা ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।