
রাজধানীতে দিনভর বিক্ষোভের পর পুলিশের লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ হলেও আন্দোলন থামাননি এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। রাতেই তারা আবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত নন; আন্দোলনকে বিতর্কিত করতেই বহিরাগতরা ভাঙচুর চালিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ৮টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে পুনরায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর আগে সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা মানুষ একপর্যায়ে ফার্মগেট প্রান্তের ব্যারিকেড সরিয়ে দিলে কয়েকটি বাস সামনে এগোতে শুরু করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বাসগুলোর গতিরোধ করেন। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি যাত্রীবাহী বাসের সামনের ও পাশের কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
বাস ভাঙচুরের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের একজনকে আমরা ধরে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছি।’
অন্যদিকে বাসে থাকা যাত্রীরা ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক যাত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন থাকলেও যাত্রীবাহী বাসে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, প্রশ্নপত্রে ত্রুটির অভিযোগ এবং প্রশ্নের মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে নামেন পরীক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, সোমবারের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া এবং পরবর্তী পরীক্ষার নতুন সূচি ঘোষণাসহ বিভিন্ন দাবি জানান।
দিনের শুরুতে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং আবারও সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। বিকেলে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গেলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। সংসদ ভবনের সীমানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর আবারও একই স্থানে ফিরে এসে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা।