
নৈতিকতা বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দায়ে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন শাস্তি পেলেও চিত্রনায়িকা পরীমনির কেন কোনও শাস্তি হবে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রশ্ন তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।
শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ২০২১ সালের ১৪ জুনের বোট ক্লাব ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই ঘটনায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে চিত্রনায়িকা পরীমনি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন শিথিল।
আবু হানিফের দাবি অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে ওই পুলিশ কর্মকর্তা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাদের একসঙ্গে কেক কাটার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, সে সময় পরীমনির বাসায় সাকলায়েনের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
তিনি তার পোস্টে বলেন, পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কের ঘটনায় সাকলায়েন চাকরি হারিয়েছেন এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শাস্তি পেয়েছেন। তবে একই ঘটনায় পরীমনির কোনো শাস্তি হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আবু হানিফ লেখেন, ‘পুলিশের এই কর্মকর্তা তার অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। কিন্তু পরীমনি কি কোনো শাস্তি পেয়েছে? দেশের প্রচলিত কোনো আইনে বা নৈতিকভাবে কি পরীমনি অন্যায় করেনি? একই ঘটনায় যদি সাকলায়েনের শাস্তি হয়, তাহলে পরীমনির কেন শাস্তি হবে না?’
যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হয় ক্ষমতার অপব্যবহার, তদন্তের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন, যা বিভাগীয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
কিন্তু অন্যদিকে একজন বেসরকারি নাগরিকের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা নৈতিক বিতর্ক নিজে থেকে ফৌজদারি অপরাধ হয় না, যদি না নির্দিষ্ট কোনো অপরাধমূলক কাজ যেমন প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা আইনভঙ্গ প্রমাণিত হয়। ফলে একই ঘটনায় দুই পক্ষের আইনি দায় এক রকম না হয়ে তাদের পদমর্যাদা ও দায়িত্ব অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
আবু হানিফ আরও বলেন, এ ঘটনায় শুধু সাকলায়েন নন, তার পরিবারও সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। একইসঙ্গে পরীমনিকে ঘিরে নানা বিতর্ক থাকলেও তার কোনো জবাবদিহি হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।