
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
বুধবার ( ০৪ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিতর্ক শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় এবং ভোট গ্রহণ হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সিদ্ধান্তকে ঘিরে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হচ্ছে। হামলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বহু আইনপ্রণেতা ও সাধারণ মার্কিন নাগরিক সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দাবি, সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই এ ভোট প্রয়োজন। বিপরীতে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। তবে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রস্তাবটি পাস করানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে তুলে ধরতেই এই ভোট আয়োজন করা হচ্ছে।
এদিকে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপারের ভাষ্য, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান। এতে অংশ নিয়েছে ৫০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে কুপার বলেন, তেহরানের আক্রমণক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিক্রিয়াশীল হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি জটিলতর হচ্ছে, বাড়ছে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা। উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক বাজারেও।