
ইরানের পার্লামেন্ট স্পীকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য অবরোধ ইস্যুতে এক রহস্যময় ‘গাণিতিক সমীকরণ’ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়েছেন, যেখানে তেলের দাম নিয়ে সরাসরি সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এখনকার ৪-৫ ডলারের দাম উপভোগ করুন, কারণ এই তথাকথিত ব্লকেডের পর এটাকেই সস্তা মনে হবে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিং স্টেশনের ছবি পোস্ট করে এই মন্তব্য করেন তিনি, যা দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
গালিবাফ তার পোস্টে যে সমীকরণটি দেন, ΔO_BSOH>0 ⇒ f(f(O))>f(O), সেটি কোনো প্রচলিত গণিত বা রসায়নের সূত্র নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রতীকী একটি রাজনৈতিক বার্তা। তবে এই সমীকরণের ভেতরে লুকানো ব্যাখ্যাই মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমীকরণের প্রথম অংশ ΔO_BSOH>0 দিয়ে তিনি বোঝাতে চান, হরমুজ প্রণালিতে ব্লকেড হলে তেলের দামের পরিবর্তন হবে ধনাত্মক, অর্থাৎ দাম বাড়বে। এখানে Δ বোঝাচ্ছে পরিবর্তন, O তেলের দাম, আর BSOH হলো হরমুজ প্রণালির অবরোধ। পুরো অংশটির অর্থ দাঁড়ায়, অবরোধের সরাসরি প্রভাব হিসেবে তেলের দাম বাড়বেই।
কিন্তু গালিবাফের মূল বার্তা লুকিয়ে আছে দ্বিতীয় অংশে, f(f(O))>f(O)। এখানে f(O) মানে তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব, যেমন পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়া। আর f(f(O)) বোঝাচ্ছে সেই প্রভাবের ওপর আরও এক স্তরের প্রভাব, অর্থাৎ তেলের ওপর নির্ভরশীল সবকিছুর দাম বাড়া। এই অংশ দিয়ে তিনি দেখাতে চান, প্রভাবটি শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং চক্রাকারে বিস্তৃত হয়ে পুরো অর্থনীতিকে আঘাত করবে, এবং সেই দ্বিতীয় স্তরের প্রভাব প্রথমটির চেয়েও বেশি হবে।
এই গাণিতিক ব্যাখ্যার সঙ্গেই তার ‘৪-৫ ডলারের দাম’ সংক্রান্ত মন্তব্যটি যুক্ত হয়ে বার্তাটিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। অর্থাৎ এখন যে দামকে বেশি মনে হচ্ছে, অবরোধের পর সেই দামই তুলনামূলকভাবে সস্তা বলে মনে হবে, কারণ পরবর্তী ধাক্কা আরও বড় হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গালিবাফ এখানে সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারির বদলে অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভয় দেখিয়েছেন, যেখানে একটি সম্ভাব্য অবরোধ কেবল জ্বালানি বাজার নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চেইন রিঅ্যাকশনের মতো প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে লেগো অ্যানিমেশন, মিম কিংবা ব্যতিক্রমী পোস্টের মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন জনগণের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার যে কৌশল ইরান নিচ্ছে, সেটিও এবারের উত্তেজনার এক নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতে, এই ডিজিটাল কৌশলে ইরানের মিডিয়া টিম কার্যত পূর্ণ নম্বর পাওয়ার মতো পারফরম্যান্সই দেখাচ্ছে।