
বিশ্বের ৭ হাজার ৮০৬টি গল্পের মধ্য থেকে বাছাই করে কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজ ২০২৬-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের দুই লেখক আনমানা মনিশিতা ও শাজেদ উল হক আবির। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এই তালিকায় মোট ২৫ জন লেখক স্থান পান, যেখানে বাংলাদেশের এই অর্জন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আনমানা মনিশিতা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এবং ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের সম্পাদকীয় সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।
তাঁর মনোনীত গল্প ‘এ ম্যাসকিউলিন ফেস্ট’-এর পটভূমি ১৯৫০-এর দশকের পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশ। গল্পে এক তরুণ বাঙালি মুসলিম নারীর জীবনে নারীত্বের অপ্রত্যাশিত বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে শাজেদ উল হক আবির একজন কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১১। তিনি ‘কালি ও কলম তরুণ কথাসাহিত্যিক পুরস্কার’ পেয়েছেন এবং বর্তমানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
তাঁর মনোনীত গল্প ‘মফিজ’স রিলেশন স্পার্ক নাই’ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অরুণাভ সিনহা ও শবনম নাদিয়া। গল্পটি দরিদ্র মফিজের দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা, ভাঙন এবং জীবন ও পরিবেশের নানা মাত্রা নিয়ে নির্মিত।
এই স্বীকৃতিকে আবির দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে শর্টলিস্টেড হওয়া আমার কাছে কেবল একটি সংবাদ মাত্র, অন্য যেকোনো খবরের মতো। লেখক হিসেবে আমার পথচলা আলাদা একটি জগৎ, আলাদা এক যাত্রা। সেই পথে আমার হাঁটাটা একেবারেই একাকী।’ তাঁর এই বক্তব্য যেন সাফল্যের ঝলকানির আড়ালে সৃষ্টিশীলতার নিঃসঙ্গ পথচলার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গল্পকারদের এই উপস্থিতি যেন এক নতুন জানালা খুলে দিল, যেখানে শব্দের ভেতর দিয়ে ফুটে ওঠে সময়, সমাজ আর মানুষের গভীরতম অনুভূতির প্রতিচ্ছবি।