
২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিককে পুলিশ ‘সিরিয়াল অফেন্ডার’ বা নিয়মিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লিমনের সাবেক রুমমেট হিশামের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক সহিংসতা ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হিশামের বাসা থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে নাহিদা বৃষ্টির মিল পাওয়ায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পরিবারের সদস্যরা। এতে ঘটনাটির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ছিল নাটকীয়। টাম্পার উত্তরে নিজ বাসায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে হিশাম অস্ত্রসহ ঘরের ভেতরে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষায়িত ‘সোয়াট’ টিমকে ডাকা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধের পর শেষ পর্যন্ত সোয়াট সদস্যদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে আটক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
হিলসবোরো কাউন্টির আদালত ও শেরিফ অফিসের নথি ঘেঁটে জানা গেছে, হিশাম নিজেও একসময় ইউএসএফের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করলেও গ্রেপ্তারের সময় তিনি আর ছাত্র ছিলেন না। ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত ও চুরির অভিযোগও আনা হয়েছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার সহিংস আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সদস্যরাই আদালতে ‘পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞা’র আবেদন করেছিলেন—যা তার ব্যক্তিত্বের বিপজ্জনক দিকটি তুলে ধরে।
গ্রেপ্তারের পর হিশামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর তথ্য গোপন, অবৈধভাবে মরদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা এবং পরিকল্পিত সহিংসতা। জামিল লিমনের খণ্ডিত মরদেহ সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার এবং নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করেছে। উল্লেখ্য, লিমন পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বৃষ্টি ছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী।
নাহিদা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানিয়েছেন, হিশামের বাসার ভেতর থেকে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে তার বোনের ডিএনএ মিলেছে। তবে মরদেহ সম্পূর্ণ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
বর্তমানে হিলসবোরো কাউন্টির হেফাজতে থাকা হিশামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং তার অতীত অপরাধের নথি সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে মার্কিন প্রশাসন।