
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন দাবি তুলেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির কেবলমাত্র সামান্য অংশ ব্যবহার করেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বড় অংশ এখনও অক্ষত ও ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, ইরান একদিকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রেখেছে, অন্যদিকে যেকোনো সময় বড় ধরনের পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জানান, দেশীয় প্রযুক্তির ভিত্তিতে ইরান বর্তমানে এক হাজারের বেশি ধরনের আধুনিক অস্ত্র তৈরি করছে। এ উৎপাদন কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, এই বিস্তৃত ও ছড়িয়ে থাকা উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট কারখানা বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিক অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না। বরং ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান। রেজা তালাই-নিকের ভাষায়, এই প্রণালি ইরানের জন্য ‘নিয়ন্ত্রণের প্রধান হাতিয়ার’। এর মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী জলসীমার ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছে দেশটি এবং এটিকে সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে উত্তেজনার এই পর্যায়ে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে একটি বিস্তৃত পাল্টা কৌশল সামনে রেখে এগোচ্ছে।