
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়ে ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানায় দেশটি। আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতার মধ্যেই আমিরাতের এই পদক্ষেপকে জোটটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের সময় আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ওপেক জোটের ভেতরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ঐক্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
তেল উৎপাদন ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করে আসা ওপেক ও ওপেক প্লাসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নানা রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও প্রকাশ্যে বড় ধরনের বিভাজন খুব কমই দেখা গেছে। সেই বাস্তবতায় আমিরাতের সরে যাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেক জোটের সমালোচনা করে আসছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, তেলের দাম বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে জোটটি। আমিরাতের সরে যাওয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক ঘটনা হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের সময় আমিরাত অভিযোগ তুলেছিল, তাদের ওপর হামলার পরও মিত্র আরব দেশগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এর মধ্যেই সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস এক সম্মেলনে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলো লজিস্টিক সহায়তা দিলেও রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে তাদের অবস্থান ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আরব লীগের ভূমিকাতেও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।