
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হলে শত্রুপক্ষকে নজিরবিহীন এবং ধারণাতীত ধাক্কা সইতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু ও আঞ্চলিক ইস্যুতে তেহরানকে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মাত্র দুই থেকে তিন দিনের কড়া সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরপরই চিরবৈরী ওয়াশিংটনকে পাল্টা এই বার্তা দিল ইরান।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক সংঘাতগুলো থেকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত যুদ্ধবিদ্যা অর্জন করেছে। ফলে ভবিষ্যতে যদি আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে শত্রুপক্ষের জন্য রণক্ষেত্রে আরও অনেক বড় বড় চমক অপেক্ষা করছে।
সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে মার্কিন কংগ্রেসের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের সূত্র দিয়ে আরাঘচি নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীই বিশ্বের প্রথম শক্তি হিসেবে আমেরিকার অহংকার বলে পরিচিত একটি অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫’ (F-35) স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার গৌরব অর্জন করেছে।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর মার্কিন কংগ্রেস শত শত কোটি ডলার মূল্যের কয়েক ডজন বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীই প্রথম একটি বহুল প্রচারিত এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোকে, যুদ্ধে প্রত্যাবর্তন আরও অনেক চমক নিয়ে আসবে।"
তেহরানের সামরিক কমান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যদি আবারও ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা হামলা শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ‘নতুন ফ্রন্ট’ বা যুদ্ধের নতুন সম্মুখভাগ উন্মোচন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
অবশ্য মাঠপর্যায়ের এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক আলোচনার একটি মৃদু আভাস দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও নীতিগত দ্বিপাক্ষিক সংলাপে বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন ও গাজা সীমান্তে ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর আগ্রাসন ও রক্তপাত অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো নতুন এক বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিয়ে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জনে।
এর পাশাপাশি, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সামগ্রীবাহী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র আরও একটি সাহায্যকারী নৌযান মাঝসমুদ্রে অবরুদ্ধ ও আটক করেছে ইসরাইলি নৌবাহিনী। এই বিশেষ ফ্লোটিলা বা নৌবহর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৬১টি নৌযান ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কর্তৃক জব্দ ও আটক করা হলো।
সূত্র: আল-জাজিরা