
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজে এসে শুধু হাজিরা খাতায় সই করতেন, আর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য দাঁড় করিয়ে দিতেন নিজের সদ্য দাখিল পাস করা ছেলেকে! চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা বেগমের এমন অভিনব ও দায়িত্বজ্ঞানহীন জালিয়াতির ঘটনা ফাঁসের পর অবশেষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ওই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত ১২ মে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন স্বাক্ষরিত ৭৮৮/৭ নম্বর স্মারকের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে নিয়মমাফিক কোনো ছুটি না নিয়ে কেবল কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় সই করে চলে যেতেন। আর তার অনুপস্থিতিতে নিজের জায়গায় ক্লাস নেওয়ার জন্য তার সদ্য দাখিল (এসএসসি সমমান) পাস করা ছেলে মিরাজুন্নবী সিয়ামকে নিয়োজিত করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মায়ের বদলি হিসেবে ছেলের এই পাঠদানের ঘটনায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে এই অনিয়মের খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে টনক নড়ে শিক্ষা বিভাগের এবং তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, "অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছ।"
একই সুরে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, "তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"