
বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার এক তীব্র লড়াইয়ের মাঝেই সাত দিনের ব্যবধানে বেইজিংয়ে পা রাখলেন বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের সপ্তাহ না পেরোতেই এবার বেইজিং সফরে গেলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিন প্রধানকে স্বাগত জানাতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ঠিক ততটাই রাজকীয় আয়োজন করা হয়েছিল, যা গত সপ্তাহে ট্রাম্পের অভ্যর্থনায় দেখা গেছে।
আজ পুতিনের আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দরে বিছানো হয়েছিল লাল গালিচা এবং তাকে ২১টি তোপধ্বনির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এ সময় দুই দেশের সুগভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে একদল শিশু রুশ ও চীনা পতাকা নেড়ে ‘আপনাকে স্বাগত’ বলে চিৎকার করতে থাকে।
তবে ট্রাম্প ও পুতিনের এই দুই হাই-প্রোফাইল বেইজিং সফরের প্রোটোকলে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিমানবন্দরে নামেন, তখন তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং। অন্যদিকে, পুতিনকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান দেশটির ঝানু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে, দুই দেশ ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত সহযোগিতা’ আরও গভীর করেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিশ্ব এখন ‘ক্রমেই বিশৃঙ্খল’ হয়ে পড়ছে এবং ‘আধিপত্যবাদ সর্বত্র ছেয়ে গেছে’।
একচেটিয়া মার্কিন মোড়লতন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে শি জিনপিং চীন ও রাশিয়াকে একসাথে ‘আরও ন্যায়সংগত ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানান।
চীনা প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে পরিষ্কার দুটি বার্তা দেয়। প্রথমত, বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে যে গভীর ও অটুট পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বিদ্যমান, ওয়াশিংটনের সাথে বেইজিংয়ের সেই সম্পর্ক কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
দ্বিতীয়ত, শি জিনপিং স্পষ্টতই এমন একটি বহুমেরুর (মাল্টিপোলার) বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, যেখানে এককভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য, ক্ষমতা ও প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে।
সূত্র– আল জাজিরা