
দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ৮০ লাখ টাকাসহ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বুধবার তাঁর বন্ধু শামীম গাজীর একটি পাটখেত থেকে পাঁচটি বস্তায় ভর্তি আরও দুই কোটি ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীপঙ্করের কাছে আরও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও সোনার গহনা রয়েছে, যা দ্রুত উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের আগে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং স্কুটার চালাতেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি ক্রমান্বয়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীপঙ্কর পৌরসভার বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অবাধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঘুষ নিতেন। সরকারি আবাসন প্রকল্প, রেশন কার্ড, লক্ষ্মীর ভান্ডার, বেকার ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বয়স্ক ভাতাসহ প্রতিটি জনকল্যাণমূলক খাতেই দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন তিনি। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো কাজই করতেন না বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পর, অভিযুক্ত এই চেয়ারম্যানের দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় জনসাধারণের একটি অংশ।