
আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে কোনো ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ফি ছাড় দেওয়া হবে। পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ের জন্য প্রণালি ব্যবহারের স্বাভাবিক যে ব্যয় রয়েছে, তা ইরান সরকার নিজেই বহন করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬০ দিনের জন্য আবেদনকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করছে তেহরান।
মাসের পর মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপথে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তকে তা কাটিয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে।
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে আগ্রহী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে আগে পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি করতে এবং সমঝোতা স্মারকের আওতায় সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই কর্তৃপক্ষই জাহাজগুলোর চলাচলের অনুমতিপত্র, নির্ধারিত সময়সূচি এবং রুট নির্ধারণ করবে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইরান জানিয়েছে, সামুদ্রিক করিডোরে এখনো কিছু ঝুঁকি রয়েছে। তাই জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অনুমোদন পাওয়া জাহাজগুলোকে নির্ধারিত সময় ও নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, এভাবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক নৌপরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।