
সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার (১৯ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওয়াশিংটনের এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্তে পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ৪৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় রুবিও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সংলাপই লেবাননের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানের সবচেয়ে কার্যকর পথ। এ সময় আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের এজেন্ডা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই বৈঠকগুলোর লক্ষ্য হবে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি শক্তিশালী করা। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন। পরে জুন মাসে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর সাময়িক সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা এলেও হিজবুল্লাহকে আলোচনার বাইরে রাখায় বাস্তব অগ্রগতি সীমিত ছিল।
২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে লেবানন সরকার মার্কিন সমর্থিত একটি রোডম্যাপের আওতায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে তারা দক্ষিণ সীমান্ত থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে। তবে জুন মাসে সম্পাদিত এক চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলে সরে যাওয়ার শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি সেখানে স্থান পায়নি।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধ অবসান চুক্তি বা এমওইউ-তে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের দুই মন্ত্রী বেন-গভির ও স্মোট্রিচের লেবাননবিরোধী হুমকি এবং চলমান সীমান্ত উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরলভাবে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী সংঘাতের পরিবেশ বজায় রাখতে আগ্রহী।
সূত্র: আল জাজিরা