
থানার লকআপ থেকে স্বামীকে মুক্ত করার চেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে এক তৃণমূল নেতার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২০ জুন) সকালে ৩৭ বছর বয়সী সারিনা বিবিকে তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ফলতা থানায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন নেপাল সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশের সময় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ফলতা থানার হেফাজতে ছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সারিনা বিবির নেতৃত্বে একদল সমর্থক ফলতা থানায় প্রবেশ করে জাহাঙ্গীর খানকে লকআপ থেকে বের করে আনার চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয় এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের পেছনে সারিনা বিবির সক্রিয় ভূমিকা ছিল। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় জাহাঙ্গীর খানের কোমরে দড়ি বেঁধে ফলতার বিভিন্ন সড়কে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই তিনি এই বিক্ষোভ ও হামলার নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
এ ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, সারিনা বিবির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ গুরুতর ধারায় মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনা করতে।
সম্প্রতি ফলতা এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ জাহাঙ্গীর খান তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা এলাকায় তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময় আইপিএস কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মার সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ওই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ফলতা আসনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর ভারতের নির্বাচন কমিশন সেখানে ভোটগ্রহণ বাতিল ঘোষণা করেছিল। সে সময় জাহাঙ্গীর খান তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন এবং ‘পুষ্পা’ সিনেমার আদলে নিজেকে ফলতার ‘ডন’ হিসেবে উপস্থাপন করতেন বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।
পরবর্তীতে পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে নাটকীয়ভাবে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন জাহাঙ্গীর খান। এরপর ওই আসনে বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় লাভ করে।
নির্বাচনের পরও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর নজরদারিতে ছিলেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি