
চীনে নির্মিত প্রথম উন্নত স্টেলথ সাবমেরিন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করেছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর দাবি, নতুন এই সাবমেরিন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং ভারত মহাসাগরে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে।
গত এপ্রিলে সাবমেরিনটি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ১১ জুন এটি করাচি বন্দরে পৌঁছায়। পাকিস্তানের জন্য নির্মাণাধীন আটটি ‘হ্যাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনের মধ্যে এটিই প্রথম। পরিকল্পনা অনুযায়ী চারটি সাবমেরিন চীনে এবং বাকি চারটি পাকিস্তানে নির্মাণ করা হবে।
৭৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ দশমিক ৪ মিটার প্রস্থের ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’-এ এয়ার ইন্ডিপেনডেন্ট প্রোপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এ প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিনটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে পারে এবং সহজে শনাক্ত না হয়ে গোপন অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করে।
সাবমেরিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেন, ভবিষ্যতে এসব সাবমেরিন আরও আধুনিক অস্ত্র ও উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থায় সজ্জিত করা হবে। তার মতে, নতুন এই বহর দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ‘হ্যাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো ধাপে ধাপে ফ্রান্সে নির্মিত পুরোনো ‘অগোস্তা’ শ্রেণির সাবমেরিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩২ সালের মধ্যে আটটি সাবমেরিনের পুরো বহর প্রস্তুত হবে।