
চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংজি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় একটি সাপের খামার তলিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০টি সাপ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে বিষধর গোখরাও রয়েছে। এরই মধ্যে সাপের কামড়ে অন্তত একজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন বুধবার (৮ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে গুয়াংজি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নাননিংয়ের অধীন হেংঝৌ শহরের একাধিক জলাধারে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পাশের একটি সাপের খামার বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।
ঘটনার ভিডিও গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, হেংঝৌ শহরের ইউনবিয়াও টাউনশিপের দেংওয়েই গ্রামের একটি খামার থেকে শত শত সাপ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
দেংওয়েই গ্রামের কমিটির প্রধান উ ঝি স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি ৬ জুলাই সকালে ঘটে। এখন পর্যন্ত একজন গ্রামবাসী সাপের কামড়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পালিয়ে যাওয়া সব সাপ বিষধর নয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, লিউলান ও ইউনবিয়াও জলাধারের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েকটি ছোট সাপের খামার ডুবে যায় এবং সেখান থেকে বিপুলসংখ্যক সাপ বেরিয়ে আসে।
স্থানীয় সাপচাষি লেই জানান, তার খামারটি উঁচু স্থানে থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েনি। ওই এলাকায় মূলত গোখরা, কিং র্যাট স্নেক ও জলসাপ পালন করা হয়। এর মধ্যে কেবল গোখরাই বিষধর। তার ধারণা, নিচু এলাকায় থাকা ছোট খামারগুলো থেকেই অধিকাংশ সাপ পালিয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর অনেকগুলো মারা যেতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।
হেংঝৌ জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, সাপের খামার ধ্বংস এবং গ্রামবাসীর সাপের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে দেংওয়েই গ্রামের প্রধান উ ঝি জানান, আশপাশের বন্যাকবলিত নয় এমন গ্রামের এক ডজনের বেশি বাসিন্দা স্বেচ্ছায় একটি সাপ ধরার দল গঠন করেছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাপ উদ্ধার করছেন, যাতে নতুন করে কেউ সাপের কামড়ের শিকার না হন।
তথ্যসূত্র: সিজিটিএন, গ্লোবাল টাইমস।