
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সোমবার (২০ জুলাই) পার্লামেন্ট অভিমুখে বড় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই মিছিলে হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অংশ নেবেন। তবে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
মিছিলকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই পদযাত্রার জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও সিজেপির এক মুখপাত্র একটি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসনের অনুমতি না থাকলেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করবেন।
এদিকে শনিবার আন্দোলনে নতুন মোড় নেয়, যখন টানা ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবারের কর্মসূচিতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দাবি করেছেন, ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি নিজেও অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন। যন্তর মন্তরের সমাবেশে জাতীয় পতাকা ও সংবিধান হাতে নিয়ে তিনি চলমান আন্দোলনকে ‘প্রথম বিজয়’ বলেও উল্লেখ করেন।
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলেই তিনি অনশন ভাঙবেন। শর্তগুলো হলো, শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করবে; অথবা তাকে ও সিজেপির নেতাদের পার্লামেন্টে গিয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে; কিংবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে একই ধরনের আশ্বাস দেবেন।
গত মে মাসে বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে সিজেপির সূচনা হয়। পরে সেটিই দেশব্যাপী শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। সংগঠনটির অন্যতম প্রধান দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধান আন্দোলনকারীদের ‘বিশৃঙ্খলাকারী শক্তির বি-টিম’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেনি।
সিজেপির আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। মে মাসের শুরুতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ভারতের একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়, যেখানে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ঘটনার মানসিক চাপে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনার পর আন্দোলনের দাবিও আরও বিস্তৃত হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, এখন তারা শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করবেন।