
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাখাতের মারাত্মক অনিয়মের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর। গত সোমবার পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জ ও আটকের মুখোমুখি হওয়া আন্দোলনকারীরা থানা থেকে ছাড়া পেয়েই দমে না গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পুনরায় অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভয়ভীতি ও শারীরিক নিগ্রহ সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের মনোবল দমে যায়নি, বরং প্রতিবাদী চেতনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আটক হওয়াদের মধ্যে একজন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী কৃষ্ণা, যিনি ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সোমবার তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কৃষ্ণা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
আমি আগে ভাবতাম পুলিশ মানুষকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু সোমবার তারা আমার চুল ধরে টেনেছে এবং জেলে পাঠানোর কথা বলেছে।
একই ঘটনার শিকার হন ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সমীর দোরওয়াল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিংয়ের এই ছাত্রকে তলস্তয় রোড থেকে আটক করে মন্দির মার্গ থানায় পুরো রাত আটকে রাখা হয়। ৫ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেয়ে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি বাড়ি না ফিরে সোজা যন্তর মন্তরের ধরণাস্থলে হাজির হন। আগামী আগস্টে তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সমনে হাজিরা দিতে হবে। তিনি জানান, মা-বাবা এখনো তাঁর আটকের খবর জানেন না, কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক কঙ্কালসার অবস্থা দেখে তিনি রাজপথের লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অন্যদিকে, আইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ২২ বছর বয়সী ছাত্র সিদ্ধার্থের জন্য এই আটক ছিল এক আতঙ্কের নাম। তিন দিন ধরে যন্তর মন্তরে টানা অবস্থান নেওয়া সিদ্ধার্থ জানান, আটক হওয়ার সময় চরম অনিশ্চয়তায় ভুগলেও পরবর্তীতে থানার ভেতরে পুলিশ তাঁদের সাথে বেশ সৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। তবে পুরো ঘটনাটি তাঁর প্রতিবাদের সংকল্পকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে বলে জানান তিনি।
আলিগড় থেকে আন্দোলনে আসা ৩৮ বছর বয়সী সীমা যাদব ও তাঁর ১৬ বছর বয়সী কন্যা কৃষ্ণাও সোমবার পুলিশের হাতে আটক হন। সীমা অভিযোগ করে বলেন, অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য মা-মেয়েকে জোরপূর্বক আলাদা করে ফেলে। তাঁকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলে একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। দিল্লিতে থাকার মতো কোনো আত্মীয়ের বাড়ি না থাকায় গত পাঁচ দিন ধরে তাঁরা গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিবে আশ্রয় নিয়েছেন। চিকিৎসা ও মুক্তি পাওয়ার পর মা-মেয়ে আবারও যন্তর মন্তরে ফিরে এসে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সাথে সাক্ষাতের প্রহর গুনছেন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যন্তর মন্তরে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মধ্যে উল্লাসের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, যখন ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে সোমবারের ঘটনায় আটক হওয়া সবাইকে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই গণআন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে, যার প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।