
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। মারিব শহরে হুথিদের নতুন করে হামলার পরপরই সরকারি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় দুই পক্ষের মধ্যে ফের বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের এক সামরিক মুখপাত্র জানান, শনিবার হুথিদের ‘সামরিক সক্ষমতা ও সেনাদের লক্ষ্য করে’ ‘একাধিক অক্ষ এবং সংঘর্ষের রেখা বরাবর’ হামলা চালানো হয়েছে। নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান প্রয়োজনীয় ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার হাজরামাউত ও মারিব প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সরকারি সেনা নিহত হন। ওই হামলায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। এরই জবাবে সরকারি বাহিনী নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
শনিবার ইয়েমেনের উপ-তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ গেজান জানান, হুথিরা মারিব শহরের বেসামরিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো শুরু করেছে।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের একটি হামলায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আরও ১৪ জন আহত হওয়ার পর মারিব শহরে নতুন করে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। দেশটির প্রায় ৫০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ২০ লাখের বেশি মানুষ মারিব শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।
হুথিদের দাবি, শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি হামলা তারা প্রতিহত করেছে। ওই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সানা থেকে আল জাজিরার ইউসুফ মাউরি জানান, কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম সরকারি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছে। মারিব ও হাজরামাউতে সরকারি বাহিনীর অবস্থানে হুথিদের আগাম হামলার কৌশলের প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইউসুফ মাউরি আরও বলেন, হুথিরা অভিযোগ করছে, হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে সরকারি বাহিনী সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করছে। এমন আশঙ্কা থেকেই তারা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে গোষ্ঠীটি।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও কেমব্রিজের গার্টন কলেজের প্রেসিডেন্ট এলিজাবেথ কেন্ডাল মনে করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা ইয়েমেনকে আবারও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার ‘আসন্ন সম্ভাবনা’ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো শেষ হয়নি। ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদও ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে গোষ্ঠীটির অব্যাহত হামলারও নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।