
ইরানের ওপর যতই অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হোক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হতে পারেন বলে মনে করেন ওয়াশিংটনভিত্তিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গালফ স্টেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী জর্জিও কাফিয়েরো।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাফিয়েরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক চাপের ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক দুর্ভোগ এবং মানবিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তবে এই চাপ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধের লক্ষ্য কতটা অর্জন করতে পারবে, তা নিয়ে তিনি যথেষ্ট সন্দিহান।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাফিয়েরো বলেন, ‘আমার গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।’
তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে টিকে থাকা দেশটির জন্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়; বরং এটি বহু বছরের বাস্তবতা।
কাফিয়েরোর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকায় ইরান চাপ মোকাবিলা ও তা এড়িয়ে চলার বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করেছে। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটেও তেহরানের হাতে এমন কিছু বিকল্প রয়েছে, যার কারণে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশকে উল্লেখযোগ্য মূল্য দিতে হতে পারে।
ইরানের ওপর চলমান অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কাফিয়েরো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় তেহরানকে সহযোগিতা করে আসছে।
তিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইরান-চীন সম্পর্ককে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে না ফেলে, তাহলে চীনের মতো বৃহৎ এশীয় অর্থনীতি ইরানকে বর্তমান চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সহায়তা করতে পারে।
এ বিষয়ে কাফিয়েরো বলেন, ‘এশিয়ার একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে চীন ইরানকে এই সংকট সামলে উঠতে সহায়তা করতে পারে—এটি বেশ স্পষ্ট ছিল।’