
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিনে মেডিকেড কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের একটি বড় জালিয়াতি চক্রের ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী জাকিয়া খানকে ৬ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে মার্কিন আদালত। আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতের বিচারক নাতাশা সি. মার্লে এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জাকিয়া খানকে ৫৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত ৫ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সম্পত্তি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত সম্পদের মধ্যে রয়েছে দুটি স্থাবর সম্পত্তি, নগদ অর্থ এবং তার বাড়ি থেকে জব্দ করা স্বর্ণালঙ্কার।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাকিয়া খান ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ড এলাকায় অবস্থিত হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট পরিচর্যা কেন্দ্র এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্রের মালিক ছিলেন।
এ ছাড়া তিনি একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। একই সঙ্গে জালিয়াতির অর্থ গোপন রাখা এবং অবৈধ অর্থ ও ঘুষ প্রদানের কাজে ব্যবহৃত আরেকটি প্রতিষ্ঠানও তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
ভুয়া সেবার বিল দেখিয়ে মেডিকেড থেকে অর্থ উত্তোলন
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত মেডিকেড সুবিধাভোগীদের এসব পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করানো হতো।
তাদের সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ঘুষ ও অবৈধ অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাস্তবে কোনো সেবা না দিয়েই মেডিকেডের কাছে সেবার বিল দাখিল করা হতো।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই দুটি পরিচর্যা প্রতিষ্ঠান মেডিকেডের কাছে প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৭০ কোটি টাকার ভুয়া বিল জমা দেয়।
এর ভিত্তিতে মেডিকেড থেকে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।
জালিয়াতির অর্থ ব্যবহার করা হয় ঘুষ প্রদানে
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই অর্থের একটি অংশ অবৈধ ঘুষ ও অন্যান্য বেআইনি অর্থ প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন জাকিয়া খান।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত ঘুষ প্রদানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তিনি স্বীকার করেছিলেন।
মামলাটির তদন্ত পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্র অ্যাটর্নি অফিস।