
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি ইউরোপের কথিত দ্বিমুখী নীতির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম দে ব্রুইনের সঙ্গে বৈঠকে আরাগচি এসব কথা বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধের’ বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর নীরবতা ও প্রশ্রয়ের সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, ‘একদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রকাশ্য সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে উদাসীন থাকছে বা এমনকি তা সমর্থন করছে।’
বৈঠকে টম দে ব্রুইন চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরান-ইউরোপ সম্পর্ক নিয়ে নেদারল্যান্ডসের অবস্থানও জানান তিনি।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, নিউইয়র্কে কাতারের এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ বন্ধ, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
বাঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধ ও সংকট নিরসনের বিষয়ে ইরানের অবস্থান কাতারের মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।