
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার খবর সামনে আসার পর গ্যাংপ্রধানকে কেন সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না মুম্বাই পুলিশ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি আদেশের কারণে লরেন্স বিষ্ণোইকে কারাগারের বাইরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদে আইনি জটিলতার পেছনে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রভাবশালী নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের আহমেদাবাদে অবস্থিত সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। ২০২৩ সালের আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৮ ধারার অধীনে একটি আদেশ জারি করে। ওই আদেশে অন্য কোনো তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে কারাগারের বাইরে নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ফৌজদারি কার্যবিধির পরিবর্তে কার্যকর হওয়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ৩০৩ ধারার অধীনে কয়েক দফায় আদেশটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এই বিধিনিষেধের কারণে আদালতের প্রচলিত হাজিরা পরোয়ানা কার্যকর করা এবং বিষ্ণোইকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার করা আবেদন বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তাঁকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের সময় সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে এ নিষেধাজ্ঞা তদন্তের সব পথ বন্ধ করেনি। উপযুক্ত আদালতের নির্দেশ নিয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলো ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে অথবা কারাগারের ভেতরে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
একই ধরনের সুরক্ষা পেয়েছিলেন ছোটা রাজনও
এ ধরনের বিধিনিষেধের আওতায় থাকা আলোচিত বন্দীদের মধ্যে লরেন্স বিষ্ণোই একমাত্র নন। ২০১৫ সালে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন হিসেবে পরিচিত ছোটা রাজনকেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারতে ফেরত পাঠানোর পর রাজনকে দিল্লির তিহার কারাগারে রাখা হয়। মুম্বাইয়ে নেওয়া হলে নিজের জীবন বিপন্ন হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, মুম্বাই পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাউদ ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করেন।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই আনমোলও বর্তমানে দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দী। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত পাঠানোর পর থেকে তাঁর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা কার্যকর রয়েছে।
বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশে রয়েছে একাধিক মামলা
ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে এবং দেশের বাইরেও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে তিনি সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। তবে এই সময়ের মধ্যে কারাগারের বাইরে অবস্থান করা বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের এপ্রিলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অভিনেতা সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের নাম উঠে আসে। পুলিশের অভিযোগ ছিল, সালমান খানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।
এরপরও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে সালমান খানকে একাধিকবার হুমকি দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে টাইগার শ্রফসহ আরও কয়েকজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় সালমান খানের সংশ্লিষ্টতাকে কেন্দ্র করেই তাঁর সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।