
দীর্ঘ ১২ বছর বন্ধ থাকার পর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পুনরায় দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করেছে মিসর। শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাসটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এর মধ্য দিয়ে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দিল কায়রো।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দূতাবাস চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক এই উদ্যোগকে লিবিয়া নিয়ে মিসরের এতদিনের অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতদিন দেশটি পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল। হাফতার ত্রিপোলিতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরোধী পক্ষ।
২০১৪ সালে লিবিয়ার সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিলে ত্রিপোলিতে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয় মিসর। ওই সময় দেশটির রাজধানী ও পূর্বাঞ্চলে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসও কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
শনিবার দূতাবাস পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। এ সময় তিনি বলেন, দূতাবাস ভবনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য মিসর ও লিবিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের মানবিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের পরিচয় বহন করে।
উত্তর আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়ায় ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ঘটে। এরপর থেকেই দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভক্তি ও সশস্ত্র সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ), পার্লামেন্ট এবং ওসামা হাম্মাদের নেতৃত্বে একটি সরকার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার (জিএনইউ) ক্ষমতায় রয়েছে। এ অঞ্চলে হাই কাউন্সিল অব স্টেটও সক্রিয় রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডন