
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার প্রভাব আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত কয়েক মাসে নতুন করে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে নতুন নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন।
সোমবার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত ইউএনএইচসিআরের মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির তুলনায় এই সংখ্যা ১ হাজার ১২৯ জন বেশি। এর আগে গত বছরের জানুয়ারি মাসে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে মোট ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৪ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার আশায় অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউএনএইচসিআর মোট ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪০৮ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে, যারা ১৯৯০ সাল এবং ২০১৭ সালের পর বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৫০২ জন ১৯৯০ সালের পর এবং ১০ লাখ ৯০৬ জন ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
ইউএনএইচসিআর বলছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৪ সাল থেকে নতুন শরণার্থীদের বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ২০২৪ সালের শেষ দিকে শরণার্থী শিবিরগুলোতে নতুন আগতদের একটি ঢেউ দেখা গেছে এবং তাদের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া প্রায় ১২ শতাংশ শরণার্থী বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একক অভিভাবক, গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক, ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক ব্যক্তি এবং আইনি ও শারীরিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষও রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।