
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সংগীতের নিখুঁত চর্চা, বিশ্বব্যাপী এর প্রসার এবং নজরুলের জীবন ও সৃষ্টিশীল কর্মের ওপর অনন্য গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এবার বাংলা একাডেমির মর্যাদাপূর্ণ ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন দুই প্রখ্যাত গুণী ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও অধ্যাপক রশিদুন নবী এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা।
বুধবার দুপুরে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
২৩ মে জমকালো অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে এই সম্মাননা
বাংলা একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে আগামী ২৩ মে (শনিবার) বিকেল ৩টায় একাডেমি চত্বরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মানীয় মঞ্চেই আনুষ্ঠানিকভাবে দুই কীর্তিমানের হাতে ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ তুলে দেওয়া হবে।
মনোনীত দুই গুণীজনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত দুই ব্যক্তিত্বই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল এবং দীর্ঘকাল ধরে নজরুল চর্চায় নিবেদিত রয়েছেন:
অধ্যাপক ড. রশিদুন্ নবী: তিনি একাধারে একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক, সংগীতজ্ঞ ও স্বরলিপিকার। কবির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গানের সংকলনগ্রন্থ ‘নজরুল-সংগীত সংগ্রহ’-এর সফল সম্পাদনা করে তিনি নজরুলের সৃষ্টিকে সংরক্ষণ করেছেন। কর্মজীবনে অনন্য এই মানুষটি ১৯৭১ সালে মাত্র দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন একজন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরাসরি দেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
ফাতেমা তুজ জোহরা: দেশবরেণ্য এই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী দীর্ঘ সময় ধরে শুদ্ধ নজরুলগীতি ও আধুনিক গান গেয়ে আপামর শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি টেলিভিশন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে উপস্থাপক হিসেবেও তাঁর দারুণ জনপ্রিয়তা রয়েছে। শুধু সুরের ভুবনেই নয়, সাহিত্য জগতেও ফাতেমা তুজ জোহরার বিচরণ প্রশংসনীয়; তাঁর লেখা একাধিক উপন্যাস, গল্প, কবিতা ও ছড়ার বই ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন।