
সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূর করতে গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে এক দফায় নতুন পে-স্কেল চালুর দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—আগামী অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে এই খাতের জন্য জরুরি আর্থিক বরাদ্দ রাখা না হলে, দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের একতাবদ্ধ করে রাজপথে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরের দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মৌন মিছিল ও পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা। সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য ও দাবিদাওয়া পেশ করেন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া।
গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. সেলিম মিয়া বলেন, অষ্টম পে-স্কেল চালুর পর ইতিমধ্যে ১০ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো আলোর মুখ দেখেনি। এর ফলে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ কর্মচারীরা চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। চলমান এই সংকটে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট জারি করে তা একবারে কার্যকর করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানোর গুঞ্জন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, 'সম্প্রতি নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর আবারও কয়েক ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।'
কর্মসূচি থেকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর প্রধান দাবিগুলো হলো—আগামী জুন ২০২৬-এর মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা, চলতি বছরের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এর কার্যকারিতা কার্যকর ধরা, গ্রেডের সংখ্যা কমিয়ে এনে আমলাতান্ত্রিক বেতন বৈষম্য কমানো, পূর্বের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রথা পুনরায় চালু করা এবং পুরো চাকরিকালীন সময়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি বহাল রাখা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী নেতারা মনে করেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের নুন্যতম জীবনযাত্রার খরচ আমলে নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। তাঁরা মনে করিয়ে দেন, দেশের প্রায় ১৯ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে চাতক পাখির মতো এই নতুন পে-স্কেলের পথ চেয়ে বসে আছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয়, আসন্ন বাজেটে যদি নবম পে-স্কেল চালুর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেওয়া হয়, তবে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর সাথে যৌথভাবে আলোচনা করে সারা দেশজুড়ে একযোগে কঠোর ও অচল করে দেওয়ার মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব মো. জামাল উদ্দিন, মূখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা মহিউদ্দিন খন্দকার, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান ও মহাসচিব বেল্লাল হোসেন, কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, মাহামুদুল হাসান, খায়রুন্নাহার লিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি ছারোয়ার মোর্শেদ ও আহ্বায়ক মো. মোশারফ হোসেনসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী নেতৃবৃন্দ।