
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর নিজের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরে আজ রবিবার (২১ জুন) বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে তাঁর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কুয়ালালামপুরে দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি শেষ করে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। দুই দেশ মিলিয়ে মোট ৬ দিনের এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কৌশলগত আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রথমাংশে মালয়েশিয়া পর্বে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং ঝুলে থাকা শ্রমবাজারের সমস্যাগুলো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সফর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে:
শ্রমবাজার সচল করার উদ্যোগ: নানা কারণে বর্তমানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি স্থবির হয়ে আছে। একই সাথে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানে অনিয়মিত অবস্থায় নানা সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে কলিং ভিসা চালু এবং অনিয়মিত কর্মীদের জন্য নতুন করে কোনো ‘বৈধকরণ কর্মসূচি’ ঘোষণার মতো বড় সুখবর আসতে পারে।
সমঝোতা স্মারক: সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে দুটি সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে ‘হালাল পণ্য রপ্তানি’ নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চীনে পৌঁছাবেন। আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন তিনি চীনে অবস্থান করবেন। সফর শুরুর আগে শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, এই সফরে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক: চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে অন্তত ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এগুলো মূলত অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং উন্নয়ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করবে।
তিস্তা প্রকল্প ও শীর্ষ বৈঠক: সফরে বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা তিস্তা প্রকল্প’ নিয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা হবে। সরকারি সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (যা সামার দাভোস ফোরাম নামে পরিচিত) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি বৈশ্বিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন, যেখানে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়ে নীতি-নির্ধারণী আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলটি তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট রাখা হয়েছে। মাত্র ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্যের এই বহরকে একটি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছে সরকার। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সফর শেষ করে আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।