
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতিতে নতুন শর্ত আরোপ এবং বেতন স্কেল এক ধাপ নিচে নামিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সারা দেশে একযোগে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ঘোষিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ে কর্মবিরতির পাশাপাশি প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিএডিসির কেন্দ্রীয় কার্যালয় 'কৃষি ভবন'-সহ দেশজুড়ে বিস্তৃত বিভিন্ন দপ্তর ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অর্ধদিবস কাজ বন্ধ রাখেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা।
আন্দোলনরত কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে সম্প্রতি জারি করা একটি বিশেষ আদেশে বিএডিসির বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ৩৮টি ক্যাটাগরির পদের বেতন স্কেল ও নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। এতে চরম বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ মহাব্যবস্থাপকের মতো উচ্চপদস্থ পদসহ অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন গ্রেড বর্তমান স্তরের চেয়ে এক ধাপ অবনমন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পদোন্নতি পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নিম্নতর পদে প্রয়োজনীয় চাকরির সময়সীমা বা ফিডার সার্ভিসের মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কর্মীদের মতে, নতুন এই নির্দেশনার ফলে বছরের পর বছর ধরে চালু থাকা বিএডিসির প্রশাসনিক পদমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সবাই। একই সাথে পদোন্নতি পাওয়ার স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যা বিদ্যমান জাতীয় বেতন কাঠামোর সাথেও সরাসরি সাংঘর্ষিক।
সংস্থাটির দাপ্তরিক কাঠামো বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এতদিন বিএডিসির সর্বোচ্চ পদের মধ্যে মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান প্রকৌশলী পদগুলো দ্বিতীয় গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অথচ সরকারের নতুন আদেশে এসব গুরুত্বপূর্ণ পদকে এক ধাপ নামিয়ে তৃতীয় গ্রেডে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যমান অসন্তোষের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এ এম এস এম সাঈব জানান, সরকারি নিয়মনীতি মেনে এতদিন পর্যন্ত যা পাওনা ছিল, সেভাবেই কর্মীরা বেতন ও ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে অন্যায়ভাবে সবার গ্রেড নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রচলিত আইনি বিধিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই বেতন বৈষম্য ও প্রশাসনিক বৈষম্যের প্রতিবাদেই সংস্থাটির সকল জনবল কর্মবিরতিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, যৌক্তিক উপায়ে এই সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদের এই ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।