
মাকে শেষবারের মতো বিদায় জানিয়ে আবার চট্টগ্রাম কারাগারে ফিরেছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কারাগার থেকে বের হন তিনি। মায়ের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়।
মায়ের মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত চিন্ময় দাস
প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে যান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। সেখানে পৌঁছানোর পর তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
শেষবারের মতো মাকে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন চিন্ময় কৃষ্ণ। তাঁর সঙ্গে থাকা ভক্ত ও অনুরক্তরাও এ সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। পরে মায়ের শেষকৃত্যের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি।
পুণ্ডরীক ধামে ছিল কড়া নিরাপত্তা
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির পর তাঁকে পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখে পুলিশ।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যদেরও মাঠে মোতায়েন করা হয়। শেষকৃত্যের পুরো আয়োজন ঘিরে ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস তাঁর মায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তাঁকে আবার চট্টগ্রাম কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুণ্ডরীক ধামে মারা যান চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা শ্রীমতী সন্ধ্যা রানী ধর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল চিন্ময় দাসের মা
ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত সন্ধ্যা রানী প্রায় দুই মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।
মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে পুণ্ডরীক ধামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এবং মায়ের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।