
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে পরিবার এবং সমাজের সক্রিয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার দিবসটি পালিত হবে। বাংলাদেশে দিবসটি উদ্যাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি দেশের সব নাগরিকের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
এ বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীতিনির্ধারণ ও সেবার পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াই এ প্রতিপাদ্যের মূল বক্তব্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের চাপসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতিকূলতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে। এ কারণে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক চিকিৎসা যুক্ত করার উদ্যোগ
রাষ্ট্রপতি জানান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিত করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং কর্মক্ষম জাতি গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার বদলে যথাযথ সেবার ওপর জোর
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝাড়ফুঁক কিংবা অন্যান্য অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরিবর্তে যথাযথ চিকিৎসাসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।